খুলনা জেলার উপজেলা বটিয়াঘাটা। সেখানকার পল্লীতে গড়ে উঠেছে তেঁতুলতলা সুপার কুইন ফুটবল একাডেমি। শহরতলীর সন্নিকটে এ প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে। ক্রীড়া সংগঠক ও শিক্ষক দেবাশীষ মন্ডল এর প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রশিক্ষক হিসেবে দীক্ষা দিচ্ছেন দেশের খ্যাতিমান ফুটবল প্রশিক্ষক মোঃ মোস্তাকুজ্জামান। দক্ষিণ জনপদে একমাত্র নারী ফুটবল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
এ প্রতিষ্ঠান মূলত: ১০ থেকে অনুর্ধ্ব ১৮ বছরের মেয়েদের জন্য। বিনা খরচে এ ফুটবল প্রশিক্ষণ। গত তিন বছরে উল্লেখযোগ্য খ্যাতি অর্জন করে নারী ফুটবলের ইতিহাসে দিগন্ত সৃষ্টি করেছে। সাফল্যের ঝুলি অনেক বেশি।
২০২২ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় (বালিকা) গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে খুলনা জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়। এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা এ একাডেমিতে পরবর্তীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।
২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফুটবল ফেডারেশন একাডেমি এ্যক্রিডেশন স্কীনভূক্ত হিসেবে ওয়ান স্টার সার্টিফিকেট গ্রহণ করে। একই বছর বালিকা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে সেমিফাইনালে খুলনা জেলা একাদশ ৬-১ গোলে সাতক্ষীরা জেলা একাদশকে পরাজিত করে। এ একাডেমীর তন্নী আকতার একাই ৪টি গোল করে।
গেল বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি সোনাডাঙ্গা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে মাগুরা জেলা দলের সাথে খুলনা জেলা দলের জ্যোতি, পূজা ও তন্বি ফুটবল শৈলী প্রদর্শন করে। অনূর্ধ্ব-১৭ বালিকা জাতীয় গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের বিভাগীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলায় মাগুরা জেলা দলকে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে খুলনা রানার্সআপ হয়। জেলার সুপার কুইন পূজা রায় শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় ও টুর্নামেন্টের সুপার কুইন তন্বি আক্তার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার লাভ করেন।
২০২৫ সালে জলমা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় উপজেলা পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে চাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে সেরা খেলোয়াড় ও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিষা ও তন্বি। একই বছর অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় প্রমিলা ফুটবল প্রতিযোগিতায় খুলনা জেলা দল ২-১ গোলে ঝিনাইদহ জেলা দলকে পরাজিত করে। খুলনা পক্ষে সুপার কুইন তিশা ও তন্বি আক্তার একটি করে গোল করে।
গত বছর ১৯ আগস্ট মাগুরা স্টেডিয়ামে অনুর্ধ্ব-১৪ জাতীয় প্রমিলা ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় খুলনা জেলা দল টাইব্রেকারে মাগুরা জেলা দলকে পরাজিত করে। এ টুর্নামেন্টে তন্বী আক্তার একাই ৫টি গোল করে। গ্রামের তরুণীদের ক্রীড়া নৈপুণ্যে প্রতিবেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। এদের মধ্যে লুকিয়ে আছে রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রাণী মন্ডল, আফাইদা খন্দকার, সুরভী আক্তারের মত জাতীয় ফুটবল খেলোয়াড়রা।
একাডেমীর অধিনায়ক তিশা আহম্মেদ নারী ফুটবল লীগের ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এসব কৃতিত্বের দাবিদার ফুটবল একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা দেবাশীষ মন্ডল ও প্রশিক্ষক মোঃ মোস্তাকুজ্জামান।
এ একাডেমীর খেলোয়াড়রা হচ্ছেন, রিতু আক্তার, কেয়া, তন্বী আক্তার, তিশা আক্তার, সাবিনা আক্তার কলি, আসফানা, ঋতু বৈরাগী, মেঘলা হীরা, ইভা বিশ্বাস, দেবী দাস, সীমা, সহেলী রায়, সিমরান হোসেন, স্বর্নালী, জ্যোতি মন্ডল, টুম্পা মন্ডল, তন্বী ঢালী, শর্মী রায়, পূজা রায়, মঙ্গলী বাগচী, সুমনা, বিথি খাতুন, সাদিয়া নাসরিন, সুপর্না বিশ্বাস, বৈশাখী রায়, শ্রাবণী দাস, নন্দিতা বিশ্বাস, হাজেরা খাতুন (জারা), ফারজানা খাতুন, মন্দিরা মন্ডল, প্রিয়ন্তী রায়, সনিয়া আক্তার, বারিশা খাতুন, তিতলী টিকাদার, বনানী টিকাদার, মেঘা টিকাদার, কোহেলী ঢালী, মাহি খাতুন, রুম্পা আক্তার, ফাতেমা আক্তার সাথী, পূজা দাশ, মারিয়া আক্তার, জৈতি রায় মুন্নি, ফারিয়া আক্তার নদী, মোছাঃ তানিয়া খাতুন, টুকনি খাতুন, লিজা আক্তার, সাবিনা আক্তার।
একাডেমীর প্রশিক্ষক মোঃ মোস্তাকুজ্জামান খুদে খেলোয়াড়দের নিয়ে বিপুল সম্ভাবনা দেখছেন। প্রসঙ্গ নিয়ে বলেছেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মেয়েরা জাতীয় পর্যায়ে ফুটবলে স্থান করে নিয়েছে। এটি সবার জন্য গর্ব। তাদের অনুকরণ করে অন্যান্য গ্রামের মেয়েরা এগিয়ে আসলে ফুটবল তার পুরানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। এখানকার মেয়েরা ওমেনস’ ফুটবল লীগ ও ঢাকা লীগে অংশগ্রহণ করে খুলনার মুখ উজ্জ্বল করেছে। এটি বড় পাওয়া। খুলনা ফুটবল ইতিহাসে এটি বিরল, উদাহরণ হয়ে থাকবে।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

